মাশরাফী হবেন বিপ্লব?

খেলাধুলা

অভিষেকে সবার মাঝে আশার সঞ্চার করেছেন লেগব্রেক বোলার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে হঠাৎ করেই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এই ১৯ বছর বয়সীকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুধবার নিজের অভিষেকে ২ উইকেট নেন এই লেগি। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়ে করেন বাজিমাত। পরে উপহার দিয়েছেন দুর্দান্ত কিছু ডেলিভারি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পর্যন্ত মুগ্ধতার করা বলেছেন বিপ্লবকে নিয়ে। কথা হচ্ছে, বিপ্লব পারবেন তো দেশের ক্রিকেটে একজন লেগ স্পিনারের হাহাকার ঘোচাতে?

ইতিহাস বলছে বিপ্লবের মতো চমক হিসেবে যাদের আবির্ভাব হয়েছিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, বেশির ভাগই হতাশ করেছেন। তালহা জুবায়ের, নাজমুল হোসেনরা প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। তবে ব্যতিক্রম মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। যিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো ম্যাচ খেলার আগেই সুযোগ পেয়ে যান টেস্ট দলে। পরে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজেকে অন্যতম সফল ক্রিকেটার হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তাই প্রশ্ন রাখা যায় এভাবে, মাশরাফী হতে পারবেন তো বিপ্লব?

২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেন বিপ্লব। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন দুই মৌসুম। যেখানে নজর কাড়েন নির্বাচকদের। হাইপারফরম্যান্স স্কোয়াডের অনুশীলনে নেট বোলার হিসেবে সুযোগ পান। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিপিএলে এখনো অভিষেক হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়ে গেল। প্রথম ম্যাচেই করলেন বাজিমাত। বিপ্লব মাশরাফী হতে পারবেন কিনা, সেটি বলবে সময়। তবে এই ‘বিপ্লবময়’ সময়ে চোখ বোলানো যাক ‘চমক’ হিসেবে দলে আসা আগের ক্রিকেটারদের পরিণতির দিকে।

মাহমুদুর রহমান (আগের নাম বিকাশ রঞ্জন দাস)

মাহমুদুর একজন বাঁহাতি মিডিয়াম পেসার। যিনি বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট দলের সদস্য ছিলেন। ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিতে একটি উইকেটও নেন তিনি। তবে এরপর আর কখনোই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি তার। মজার ব্যাপার, ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি ছিল তার দ্বিতীয় ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ।

অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও ‘এ’ দলের খেলে সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে। তবে বাঁহাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম দলে নিয়মিত সুযোগ করেন নেন। যে কারণে আর জায়গা পাননি মাহমুদুর। ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ব্যাংকিং পেশায় যাওয়ার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন আরো কিছুদিন। তবে বাঁহাতি পেসার থেকে বাঁহাতি স্পিনার বনে যান তিনি।

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এখনো ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব তার কাঁধে। মাশরাফীই দেশের প্রথম ক্রিকেটার যার প্রথম শ্রেণির অভিষেক হয় টেস্ট ম্যাচে। সেটি ২০০১ সালে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এর আগে মাশরাফী বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে খেলেন। সেই বছরই শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে খেলে প্রথম শিরোনামে আসেন। সেই সময় বাংলাদেশের পেস বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা ক্যারিবীয় কিংবদন্তি অ্যান্ডি বরার্টস বলেছিলেন, বড় ভবিষ্যৎকে পেল বাংলাদেশ। ওয়ানডে ম্যাচেই প্রথম লিস্ট ‘এ’ অভিষেক হয় মাশরাফীর।

তালহা জুবায়ের

২০০১ সালে রবার্টসন মুগ্ধ হয়েছিলেন তালহা জুবায়েরকে দেখেও। মাশরাফীর এক বছর পরই টেস্ট অভিষেক হয়ে যার তার। মাশরাফীর চেয়েও গতিতে বোলিং করতে পারতেন তালহা। মাত্র একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আর ৩টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলার পরই অভিষেক করানো হয় তাকে। কয়েক বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন বড় আকর্ষণ হয়ে। কিন্তু ইনজুরির কারণে একটা সময় ঘরোয়া ক্রিকেটই হয়ে যায় তালহার ঠিকানা। ৭ টেস্ট আর ৬ ওয়ানডেতেই থমকে যায় তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

নাজমুল হোসেন

২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেন নাজমুল। এরপর মাশরাফীর মতো তারও ফার্স্ট ক্লাস ও লিস্ট ‘এ’ অভিষেক হয় টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচে। এক সময় মাশরাফীর সঙ্গে বোলিং আক্রমণে নিয়মিতও ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে ধমকে যায় তার ক্যারিয়ার। ইনজুরির কারণে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। একপর্যায়ে ২ টেস্ট ও ৩৮ ওয়ানডেতেই থামে যার তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার।

জুবায়ের হোসেন

শ্রীলঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের আবিষ্কার লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে কোনো ম্যাচ খেলার আগেই তার অভিষেক করানো হয় টেস্ট ও ওয়ানডেতে। ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আগে প্রস্তুতি ক্যাম্পে নেট বোলার হিসেবে ছিলেন জুবায়ের। সেখানেই হাথুরুসিংহের মন জয় করেন তিনি। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে এরপরই লিস্ট ‘এ’ ও ফার্স্ট ক্লাস অভিষেক করানো হয় তাকে।

এরপর তড়িঘড়ি অভিষেক করানো হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তবে জুবায়ের হারিয়ে যান দ্রুতই। মাত্র ৬ টেস্ট ও ৩ ওয়ানডেতেই থেমে যার তার ক্যারিয়ার। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে খেলেছেন সর্বশেষ। জাতীয় দল তো দূরে থাক, ঘরোয়া ক্রিকেটেও এখন সেভাবে সুযোগ মেলে না তার।